আজ শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

সদ্য প্রাপ্তঃ

*** নওগাঁ সদর উপজেলার বরুণকান্দিতে বাসচাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত * জঙ্গি অর্থায়নে জড়িত থাকার অভিযোগে রাজধানী থেকে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে : র‍্যাব * কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন ও ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছে সেনাবাহিনী * আশুলিয়ার পটুরিয়াবাজারে গ্যাসের লিকেজ থেকে আগুনে একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ * ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ব্রিফকেস থেকে পুরুষের মৃতদেহ উদ্ধার * চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় গরুচোর সন্দেহে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা * বগুড়ায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মেহেদী হাসানসহ আটক ১০ * চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট থেকে ৪শ বোতল ফেনসিডিলসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী আটক

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ১৩.০৯.২০১৭

এক গ্রামে এক ব্রাহ্মণ আর তার স্ত্রী বাস করত। সুখেই দিন যাচ্ছিল তাদের।

কিন্তু হঠাৎ একদিন কী যেন এক অজানা রোগে মারা পড়ল ব্রাহ্মণ। এদিকে ব্রাহ্মণ স্ত্রী সাত মাসের সন্তানসম্ভবা! না, সে যুগে স্বামী মরলে স্ত্রীকে দাহ হতে হতো না। তো, একদিন চুল আচড়ানোর সময় হাত থেকে অসাবধানতাবশত হাত থেকে মাটিতে পড়ে যায় চিরুনী। ঝুঁকে যে সেই চিরুনী তুলবে তা তো সে পারে না। সামনেই বসা ছিল এক কুকুর। কুকুরকে বলে সেই চিরুনী তুলে দিতে। কুকুর কী বলে? সে এক শর্ত ‍জুড়ে দেয়। বলে, ‘এক শর্তে আমি তোমার চিরুনী তুলে দিতে পারি। সেটা হলো, যদি ছেলে শিশুর জন্ম দাও তবে তাকে আমার বন্ধু হতে দিতে হবে। যদি মেয়ে হয় তাহলে, ঐ মেয়েকে আমার হাতে তুলে দিতে হবে।’ ব্রাহ্মণ-স্ত্রী এই শর্তকে তেমন গুরুত্ব দেয় না। বলে, ‘আচ্ছা দিবো, এখন চিরুনী তুলে দাও।’ কুকুর চিরুনী তুলে দেয়।
অনেক দিন পার হয়। ব্রাহ্মণ-স্ত্রী সেই শর্তকে গুরুত্ব দেয়নি। বরং খেলা মনে করে তার পরশিদের বলে। খেলায় শর্ত মানা আর কোনো শর্তকে খেলা মনে করা এক নয়। সব খেলাই শর্ত কিন্তু সব শর্তই খেলা নয়। ব্রাহ্মণ-স্ত্রী কুকুরকে দেওয়া শর্ত ভুলে গেলেও, কুকুর ভোলে না। কিছুদিন বাদেই ব্রাহ্মণ-স্ত্রী এক কন্যার জন্ম দেয়। নাম রাখে ফুলমতি। ফুলমতি বড় হতে থাকে। একদিন সে যখন খেলার সাথীদের সাথে খেলছিল, তারা দেখলো একটি কুকুর তার অদূরেই বসে আছে। তারা বললো, তারা তাদের মায়েদের মুখে শুনেছে ফুলমতিকে একদিন কুকুরে নিয়ে যাবে। মা তো আর তাদের মিথ্যা বলতে পারে না।

এক সন্ধ্যায় কুকুরটি তাদের বাড়িতে আসে। আর ফুলমতির জন্য বাইরে অপেক্ষা করতে থাকে। ফুলমতি এই কথা শুনে তো পালানোর জন্য পথ খোঁজে। ফুলমতি যদি এই বাড়িতে থাকে তবে কুকুর অবশ্যই তাকে নিয়ে যাবে। তাই ফুলমতি পালানো ছাড়া অন্য কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। কুকুর তার পিছু ছাড়বে না। ফুলমতি কেবল প্রার্থনা করতে থাকে যেন কুকুরটি কিছুক্ষণের জন্য ঘুমায়। নিদ্রাদেবী তার প্রার্থনা শুনে সন্তুষ্ট হয়। কিছুক্ষণ পর কুকুরটি ঘুমিয়ে পড়ে। সেই ভয়াল রাতে ফুলমতি বাড়ি থেকে পালায়। কিন্তু কুকুরের ঘুম, সে তো ক্ষণিকের। ফুলমতি যখন জমিদার বাড়ির কাছে তখন সে পিছনে তাকিয়েই দেখে কুকুরটি তার পিছু নিয়েছে। আর এতটাই কাছে চলে এসেছে যে সে এক চিৎকার দিয়ে সামনে এক মানুষ দেখে জড়িয়ে ধরে। বলে ‘বাঁচাও, বাঁচাও। কুকুরটি আমায় মেরে ফেলবে।’ লোকটির কাছে ছিল একটা তলোয়ার। এক মুহূর্তে কুকুরকে দিলো মায়ের ভোগে পাঠিয়ে। যুবক এই লোকটি আর কেউ নয়, স্বয়ং জমিদারের ছেলে। রাতে আশপাশ দেখতে বেরিয়েছিল। জমিদারের ছেলে ফুলমতিকে নিয়ে যায় জমিদার বাড়িতে। কিন্তু সকাল না পোহাতেই রাতারাতি গুটি বসন্ত হয়ে জমিদারের ছেলে মারা যায়। জমিদার আর তার স্ত্রী কান্নায় ভেঙে পড়লো। ফুলমতিও কান্না করলো। গ্রামবাসী সান্ত্বনা দিল। আর বললো ফুলমতিকে তাদের ছেলের মতো করে বড় করতে। যেন ছেলের বদলে তার একটা মেয়ে পেল। ফুলমতি জমিদার বাড়িতে আপন মেয়ের মতোই বড় হতে থাকলো। বাড়ির গেরস্থলি কাজকর্মেও সাহায্য করা শিখলো। দিনে দিনে সে ঋতুবতী কন্যা হয়ে উঠলো।

একরাতে যখন অন্ধকার ঘনিয়েছে জমিদারের মৃত পুত্রের প্রেতাত্মা সাদা ঘোড়ায় জমিদার বাড়িতে আসে। ঘোড়াটি গাছে বেঁধে ফুলমতির ঘরে কড়া নাড়ে। দরাজা খুলতেই ফুলমতি ভয় পেয়ে যায়। প্রেতাত্মা বলে, ‘আমায় দেখে ভয় পেয় না, আমায় ঘরে আসতে দাও।’ প্রেতাত্মা তার পূর্ব রূপ ধারণ করে। সেই সুদর্শন সুপুরুষ জমিদার পুত্র। সে রাতভর গল্প করে ভোরের আলো ফুটবার আগেই ফিরে যায়। এভাবেই চলতে থাকে দিনের পর দিন। দু’জনের মধ্যে গড়ে ওঠে গভীর সম্পর্ক। ফুলমতি সন্তানসম্ভবা হয়। ফুলমতি পুত্র সন্তানের জন্ম দেয়। চারপাশে কথার রোল পড়ে যায়। সবাই কানাঘোষা করতে থাকে। তারা ফুলমতিকে কুকর্মের জন্য বনবাসে দিতে চায়। কিন্তু জমিদারের ভেতরে এক অভুতপূর্ব পিতৃত্ববোধ কাজ করে। ঘোষণা করে, ‘ফুলমতি আমার বাড়িতেই থাকবে, কারণ সে আমার আশ্রয়ে আছে। আর আমি তার অপরাধ মাফ করে দিবো যদি সে আমার বাড়িতে থাকতে চায়।’ সে লজ্জায় দরজায় খিল দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে। নিজ ভাগ্যের দোষ দেয়। তার কপালেই কেনো এমন ঘটলো। জমিদার পুত্র দৈনিক রাতেই স্ত্রী-পুত্রকে দেখতে আসে। একরাতে দুই পরিচারিকা জমিদার পুত্রকে আসতে দেখে বিশ্বাস করে না। তার দেখে জমিদার পুত্র ফুলমতির ঘরে যাচ্ছে। তারা ঘরের ভেতর তাদের কথাবার্তাও শুনতে পায়। পরিচারিকারা তাদের চোখ আর কানকে বিশ্বাস করতে পারে না। একই ঘটনা তারা পরের রাতেও দেখে। তারা গ্রামবাসীকে ঘটনাটা বলে। তবে কেউ তা বিশ্বাস করে না। তাই তারা তা দেখবার জন্য পরের রাতে আসে এবং যা দেখে তাতে তাদের চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়। তার স্বীকার করে পরিচারিকারা মিথ্যা বলেনি।

এই ঘটনা জমিদার আর তার স্ত্রী শুনতে পেয়ে খুশি হয়। পরের রাতে তারা জমিদার পুত্রের পথ রোধ করে। তাকে চলে যেতে নিষেধ করে। কিন্তু জমিদার পুত্র বলে যে তাকে ফিরে যেতেই হবে দেবীর কাছে। তবে দেবী চাইলে তাকে তার পূর্বের সাধারণে জীবন ফিরিয়ে দিতে পারে। জমিদার আর তার স্ত্রী কোনো উপায় না পেয়ে কাঁদতে থাকল। জমিদার পুত্র বললো, ‘তোমরা এ বছর চৈতা উৎসবে এক পুজার আয়োজন করো। বারো বস্তা ময়দা দিয়ে বড় একটা পিঠা বানাও সেই পিঠা দিয়ে প্রার্থনা করো আর গরুর গাড়ির বাইশ গাড়ি নারকেল দিয়ে নৈবেদ্য দাও। নদীর পাড়ে গরম বালুতে ঐ শিশুকে শুয়ে ‍দিবে। দেবী সন্তুষ্ট হবেন আর আমি ফিরে পাব আগের জীবন।’ এই পন্থা বলার পর সে দেবরাজ্যে ফিরে যায়।

সন্তানের দেয়া পরামর্শ মতো, জমিদার চৈতা উৎসবের আয়োজন করে। আয়োজন করে সেই পুজা অনুষ্ঠানের। সবকিছুই পরামর্শ মতো হচ্ছে। বারো বস্তা ময়দার পিঠা আর বাইশ গাড়ি নারকেলের নৈবেদ্য। সারা গ্রামে বাদ্যযন্ত্রের ঝঙ্কার চলতে থাকলো। দেবী সন্তুষ্ট হয়ে গ্রামে পদার্পণ করলেন। সারা গ্রাম ঘুরে ঘুরে দেখলেন। কিন্তু গ্রামের অপর প্রান্তে নদীর পাড়ে দেখলেন, এক শিশুপুত্র তপ্ত বালিতে শুয়ে কাঁদছে। দেবী তাকে তুলে গ্রামে এসে চিৎকার করে বললেন, ‘সত্যি করে বলো, এ কার পুত্র? কোন নিষ্ঠুর মা নদীর পাড়ে তপ্ত বালিতে তাকে শুয়ে দিয়েছে? এক্ষুণি বলো। নইলে কারও ধরে মাথা থাকবে না। এই জনপদ আমি ধ্বংস করে দেবো।’ গ্রামের সবাই একে অন্যের মুখে তাকাতে থাকলো।

জমিদার পুত্র আর ফুলমতি এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। তারা বললো, ‘মা! এই নবজাত সন্তান আমাদের। আমরাই তাকে নদীর ধারে তপ্ত বালিতে শুইয়ে দিয়েছি। কারণ আমরা আমাদের কাজে অনুতপ্ত। দয়া করো মা, আমাদের ক্ষমা কর।’

দেবী বলে, ‘কেনো তুমি এই কাজ করতে গেলে?’

জমিদার পুত্র বলে, ‘মা! ফুলমতি এক বিপদে আমায় জড়িয়ে ধরে। আর আমি তার প্রেমে পড়ে যাই। পার্থিব জীবন পরিত্যাগ করলেও আমি তাকে পরিত্যাগ করতে পারি না। আমি প্রতি রাতে তোমাকে না জানিয়ে তার কাছে আসতাম। দয়া কর। আমায় ক্ষমা কর।’

দেবী বলে, ‘ঠিক আছে, ফিরে চলো দেবালয়ে।’

এসময় ফুলমতি, জমিদার আর তার স্ত্রী কান্নায় ভেঙে পড়ে। বলে, ‘মা! আমাদের বাঁচাও মা। দয়া কর। তাকে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দাও।’ নবজাত পুত্রও চিৎকার করে কান্না করে ওঠে। দেবী কী করে? দেবী নবজাত সন্তানের দিকে তাকিয়ে জমিদার পুত্রের মাথায় হাত রাখে। জমিদার পুত্র আগের জীবনে ফিরে যায়। তারপর জমিদার পুত্র পিতা-মাতা, স্ত্রী-পুত্র নিয়ে সুখে শান্তিতে থাকতে লাগলো।