আজ রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

সদ্য প্রাপ্তঃ

*** ময়মনসিংহে সুটকেসের ভেতর যুবকের লাশ * ঢাবি অধিভুক্ত ৭ কলেজের মাস্টার্স পরীক্ষা স্থগিত * দিনাজপুরে বজ্রপাতে নিহত ৬ * দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে 'সুপার ম্যালেরিয়া' * রিয়ালের পথের ইতি টানতে চান বেনজেমা * মধ্যবাড্ডায় অগ্নিকাণ্ডে মায়ের মৃত্যু, ২ সন্তান দগ্ধ * পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই: বাড়ছে ক্ষোভ, ঝিমিয়ে পড়া

Bangladesh Manobadhikar Foundation

Khan Air Travels

বিডিনিউজডেস্ক ডেস্ক | তারিখঃ ০৩.০৯.২০১৭

তরুণ কবি ও সাংবাদিক হানযালা হান। ২০১৬ তে প্রকাশিত হয়েছে হানযালা হান এর প্রথম কবিতার বই ‘জোছনার সাইরেন’।

বইটির প্রচ্ছদ করেছেন দেওয়ান আতিকুর রহমান প্রকাশ করেছে অনন্যা প্রকাশনী। আজ প্রিয়.কমের পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হল বৃষ্টি বিষয়ক তার নতুন একটি কবিতা। 

শ্রাবণের বৃষ্টি

শ্রাবণ মাস। ঝোড়ো বাতাস। একা একটি নিমগাছ। সারা রাত বৃষ্টিতে ভিজছে। তাঁর ভীষণ একা লাগছে। আহা, যদি শ্রাবণের বৃষ্টি হতে পারতাম! এমন বৃষ্টি, সেও একা, সেও হতে চায় নিমগাছের মতো। তো গাছ যদি বৃষ্টির মতো হতে চায় তবে বৃষ্টিরো নিমগাছ হওয়ার সাধ জাগতে পারে।

ভাবুন, পাশে যে নিমগাছটা দাঁড়িয়ে আছে, বা গাছের যে ডালগুলো, আর ভাবুন এই ঝোড়ো বৃষ্টিতে যে পাখিটা বাসায় ফিরতে পারেনি, অথবা যে পাখির বাসা ভেঙে গেছে, আর ভাবুন, যে তিমি মাছটা ২৫ বছর ধরে একা গান গায়, সেই ধূমকেতুর কথাও স্মরণ রাখতে পারেন- যে ৭৫ বছর পর পর একবার উঁকি দেয়, এই হালকা নীল গ্রহের মায়া সে ছাড়তে পারেনা, আবার এখানে সে থাকতেও পারে না।

জানেন? একটা গাছে অসংখ্য পাতা থাকে, এই পাতারা এক বসন্ত থেকে আরেক বসন্তে বাঁচতে পারেনা। অথবা, সেই সুগন্ধি ফুলের কথা, যে ফুলটা আজ রাতে ফুটেছে, ভোর বেলায় তাঁর মৃত্যু ঘটবে। সেই ফুলটা যদি হতে চায়, শ্রাবণের এই আজ রাতের বৃষ্টি, তবে তা কি তাঁর অপরাধ?

অথবা সেই পাহাড়ের কথা বলি, পাহাড়টা ছিল সবার বড়, আদিবাসীরা তাকে দেবতা মনে করতো, আর তার গা বেয়ে যে ঝরনা বয়ে যেত সে ছিল দেবী। কিন্তু, একদিন সেই পাহাড়টা উধাও হয়ে গেল। সে আর লোকালয়ে থাকবেনা, তার ইচ্ছে সে সমুদ্র দেখবে। কিন্তু, সমুদ্র এমন সে সবাইকে বিলীন করে দেয়। তাই, পাহাড় আর দেবতা থাকেনা, সে হয় এক পাখি। সমুদ্র পাওয়ার আগেই সে হয়ে গেছে, এক খণ্ড মেঘ। ফলত সে সমুদ্রের আত্মজা। তার স্থায়ীত্ব নেই। সে মুহূর্তকালমাত্র জীবন ধারণ করতে পারে। এই সব পাহাড়, পাখি, মেঘ আসলে মানুষের মন। এই মন হচ্ছে স্বচ্ছজলের এক শান্ত নদী। কখনো কখনো পাড় ভাঙে, সে দুই তীরের সীমাবদ্ধতা মানতে পারে না। কিন্তু, তার ক্ষমতা নাই, সমস্ত জগৎ গ্রাস করে।

ফলত বাসাভাঙা আশ্রয়হীন এক পাখি ঝাউগাছের ডালে বসে এ্রই রাতে শ্রাবণের বৃষ্টি হতে চায়। সে ডাকে কেউ কি আছে? তখন পৃথিবীতে আর কোনো পাখি বেঁচে নেই। শেষে ঝাউগাছটা তার ডাক শুনে কেঁদে উঠে। কারণ, ঝাউগাছের সাধ্য নাই- পাখি হবে।

দুঃখ কাকে বলে যদি জানতে চান, তবে শ্রাবণের বৃষ্টি হয়ে দেখতে পারেন।